মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পায়ে চলার একটি রাস্তার ওপর আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ১৫টি পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। স্কুলশিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাটুরিয়া ইউনিয়নের ধুল্যা কাজিদিঘী গ্রামে নূর মোহাম্মদের বাড়ি থেকে ধুল্যা কাজিদিঘীর ইটসলিং রাস্তা পর্যন্ত একটি পায়ে চলার পথ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই পথ দিয়ে স্থানীয় লোকজন চলাচল করে আসছেন। স্কুলে যাতায়াত, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে পথটি ব্যবহার করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট প্রতিবেশী সোরহাব হোসেন, তাঁর ভাই মজিবর রহমানসহ কয়েকজন ওই রাস্তার ওপর আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। এতে পথটি বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছি। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে যে ছোট রাস্তা দেওয়া হয়েছে, সেটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। আমরা আগের রাস্তা দিয়ে চলাচলের সুযোগ চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে সোরহাব হোসেন ও মজিবর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাঁরা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আগের রাস্তা খুলে দিতে রাজি হননি। পরে তাঁদের পক্ষ থেকে চলাচলের জন্য একটি ছোট রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন করে খুলে দেওয়া ছোট পথটি তাঁদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত মূল রাস্তাটি খুলে দিয়ে ১৫টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা হোক।

