দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সমস্যা বোঝার ক্ষমতার কারণে তিনি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বাবা, মরহুম সামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া, দেশে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই ঐতিহ্য মঈনুল ইসলাম খানের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় মঈনুল ইসলাম খান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনে এলাকাবাসী বারবার দুর্ভোগে পড়ছে। নির্বাচনী সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, নদী প্রতিরক্ষা, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
জানা গেছে, তিনি নির্বাচনী সময় ঘরে ঘরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রেখেছেন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মিলে উন্নয়নের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মূল বিষয় ছিল—বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, এবং হরিরামপুর ও সিংগাইরের নদীভাঙনজনিত ক্ষতির স্থায়ী সমাধান।
মঈনুল ইসলাম খান বলেন, “সিংগাইর ও হরিরামপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত সমস্যার শিকার। আমি নির্বাচিত হয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। স্থায়ী বাঁধ, নদী নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনমান উন্নত হবে। আমি আশা করি, জনগণ আমার পাশে থাকবে এবং আমরা একযোগে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করতে পারব।”
সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা তৈরি করেছে। গ্রামীণ বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা এলাকার মানুষের আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধি করেছে।
স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর মঈনুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে হরিরামপুর ও সিংগাইরের নদীভাঙন প্রতিরোধ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনমানের উন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। জেলাবাসী তার কর্মকাণ্ডের দিকে তাকিয়ে আশাবাদী এবং প্রত্যাশা রাখছে, তিনি জনগণের আস্থা অনুযায়ী কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফলাফল ঘোষণার পর জেলা জুড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দ মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতার প্রতি জনগণের আস্থা এবং প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানিকগঞ্জ-২ আসনের মানুষ এখন তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য আশাবাদী।

