অপসাংবাদিকতা রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় হতে হবে

আশরাফ লিটন: মাসের পর মাস আমরা সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখতে পাচ্ছি কুক্ষিগত স্বার্থের কারণে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন ধরনের অপসাংবাদিকতা। কখনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ, কখনও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আর কখনও সরাসরি গুজব–সত্যতা ও দায়বোধের সীমারেখা অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের আস্থা ভাঙছে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি, এবং সাংবাদিকতার পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদ ক্ষেত্রও এর বাইরে নেই। মানিকগঞ্জের মতো জেলায়, যেখানে মানুষ প্রায়শই স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল, সেখানে অপসাংবাদিকতার প্রভাব আরও বেশি। ভুল তথ্য বা পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই অপকর্ম রোধে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তাদের দায়িত্ব শুধুমাত্র সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা করা নয়, বরং সাংবাদিকতার মান রক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব নিশ্চিত করাও। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিত কর্মশালা, সাংবাদিক নৈতিকতা প্রশিক্ষণ এবং স্বচ্ছতার মানদন্ড নির্ধারণে নেতৃত্ব দিতে হবে।

এছাড়া, স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বাড়ানো এবং পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভুল বা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্রুত শোধন এবং ক্ষমতার শাস্তি থাকা দরকার। এছাড়া, পাঠক ও দর্শককেও সাংবাদিকতার নীতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা জরুরি, যাতে তারা তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করতে পারে।

অপসাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি। তাই স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও সক্রিয় করে এমন কর্মকাণ্ড চালানো আজকের সময়ের প্রয়োজন। কেবলমাত্র পেশাগত শৃঙ্খলা ও সততা নিশ্চিত করলেই স্থানীয় সাংবাদিকতা বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top