স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন আফরোজা খানম রিতা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি এক লাখ চার হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন, যা আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, মোট ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টিতেই তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন। বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রে নিরঙ্কুশ বিজয় তার জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আন্দোলন-সংগ্রামে একজন নারী নেত্রী হিসেবে আফরোজা খানম রিতা দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে তিনি মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থান তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে আস্থা ও সাহস জুগিয়েছে।
জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই বিপুল জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের মতে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয়লাভ তার প্রতি মানুষের আস্থারই প্রমাণ।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও তিনি সুপরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মেধাবী শিক্ষার্থী আফরোজা খানম রিতা শিল্প ও শিক্ষা খাতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল এবং মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান রেখে তিনি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে তার এই ঐতিহাসিক বিজয় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
সবখবর/ নিউজ ডেস্ক

