মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়কে ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টায় ছনকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিবাদ সভায় মুয়াজ্জেম হোসেন তোলা মাস্টারের সভাপতিত্বে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আজাদ বিপ্লব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহসিন উজ্জামান, যুবদলের সদস্য সচিব মো. ফরিদ, বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান স্বিপন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিজানুর রহমান, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত বরাইদ ইউনিয়নের অধিকাংশ অংশ চরাঞ্চল। ২০১৫ সালে এলাকার মানুষের সুবিধার্থে ছনকা গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২২ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো এনে দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি বরাইদ ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। তবে এটি পশ্চিম পাশে স্থানান্তর করা হলে কেবলমাত্র ১টি ওয়ার্ডের আংশিক লোক উপকৃত হবে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিস্বার্থে নদীর পশ্চিম পাশে জমি কিনে সেখানে একাডেমিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যালয় স্থানান্তরের পায়তারা করছে। তারা জানান, আন্দোলনের এই প্রথম ধাপ হিসেবে আজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপরও দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলেন, “যেখানে স্কুলটি নিতে চায় সেখানে একটি বাজার রয়েছে। সেখানে গেলে বখাটেদের উৎপাতের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও খেয়া পার হতে ৩০-৪০ মিনিট বেশি সময় লাগে। তাই আমরা চাই বিদ্যালয়টি আগের জায়গাতেই থাকুক।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিপক্ষে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মানিকগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় স্থানান্তরের জন্য একদল জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আসাউদ জামান বলেন, “কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নদীভাঙনের শঙ্কা উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয়। সেই সময় একটি টিম বিষয়টি যাচাই করে স্থানান্তরের অনুমতি দেয় এবং মন্ত্রণালয় থেকে চিঠিও আসে। তবে সম্প্রতি শুনেছি, ছনকার অধিকাংশ মানুষ বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে রাখার পক্ষে এবং তারা মামলা করেছে। এখন আদালত ও মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বিদ্যালয়টি কোথায় থাকবে।”
নিউজ ডেস্ক