ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য বিদেশ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার। বিষয়টিকে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর এক প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৮ মার্চ) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয়, বিশেষ করে সাধারণ সরকারি সেবা খাতে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের বদলে বিদেশি ঋণের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা ভালোভাবে দেখছেন না তারা।
তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ মোট প্রায় ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারই নেওয়া হয়েছে ইউনূস সরকারের সময়।
২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ।
যদিও এই হার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নয়, তবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এ বিষয়ে Policy Exchange Bangladesh–এর চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ওই সময়ে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছিল। ফলে বৈদেশিক ঋণের বড় অংশই বাজেট সহায়তা হিসেবে এসেছে, যার মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

