তেলের মজুদ বাড়ছে, তবু রেশনিং চলবে: জ্বালানি মন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল ব্যবহারে রেশনিং চালু থাকবে বলেও তিনি জানান।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, রোববার দুটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। এসব জাহাজ থেকে তেল সরবরাহ শুরু হলে দেশের মজুদ আরও বাড়বে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তেল অবাধে ব্যবহার করা যাবে। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং ব্যবস্থাই চালু থাকবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত। তাই বর্তমান মজুদ দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য রাখতে সাশ্রয়ীভাবে তেল ব্যবহারের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সমুদ্রে থাকা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত মজুদ রক্ষা করাই এখন মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে—এমন গুজবে বিভ্রান্ত না হতে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তাই আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি জ্বালানি তেলের চোরাচালান ও কালোবাজারি ঠেকাতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top