জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা-এর দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ভোটগ্রহণের আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয় এবং নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মনিটরিং টিম দায়িত্ব পালন করেন। সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো জেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়াও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ে তৎপর ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা ছিল প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। প্রার্থী, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকার কারণেই মানিকগঞ্জে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।

এদিকে জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবারের নির্বাচন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের মতে, প্রস্তুতি, তদারকি ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মানিকগঞ্জে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সফল উদাহরণ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top