স্বাধীনতার পর এই প্রথম মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে একজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় জেলাজুড়ে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খানম রিতা।
বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় আফরোজা খানম রিতা বলেন, “মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ আমাকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার প্রতিদান উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমে দিতে চাই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এই এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করব।”
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। “প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের সন্তানদের আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষায় গড়ে তুলতে চাই।”
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হবে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।”
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও তিনি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, “গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, বাজার ও জনপদের অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এই আসনকে এগিয়ে নিতে চাই।”
বেকারত্ব নিরসনে তিনি বলেন, “তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি আমার অন্যতম লক্ষ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করব।”
মাদক নির্মূলের বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান। “এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন, পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।”
আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমি নারী হিসেবে নয়, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই মানিকগঞ্জ-৩ আসনকে একটি উন্নত, শিক্ষিত ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।”

