আন্ধারমানিক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৯ দোকানের ক্ষয়ক্ষতি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৯টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আরও ৮টি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে বাজারের ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রথমে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আশপাশের দোকানিরা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। তবে বাজারে দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এবং অনেক দোকানে দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বালতির পানি, বালু ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এতে করে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সকাল প্রায় পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

অগ্নিকাণ্ডে বাজারের ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আরও ৮টি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, হোটেলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাজারের একটি হোটেলের পাশে থাকা পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির একটি দোকান থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। ওই দোকানে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই জানান, তাদের দোকানের সমস্ত মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন এবং দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও জানান, আগুনের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top