বর্তমানে সরকারি খাতে অনুমোদিত মোট ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ, যা মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এই তথ্য উঠে এসেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৪ সালের সরকারি কর্মচারী পরিসংখ্যানে, যা ৩০ জুন প্রকাশিত হয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছরই শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ছে।
২০১৮ সালে ফাঁকা ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৭টি পদ। ২০১৯ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টিতে। এরপর ২০২০ সালে ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫টি, ২০২১ সালে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি এবং ২০২২ সালে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৬টি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে শূন্য পদ ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১টি।
পদের শ্রেণি অনুসারে দেখা যায়, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত (পূর্বের প্রথম শ্রেণি) অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৭টি। এই গ্রেডে কর্মরত রয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ।
দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত ১০ থেকে ১২তম গ্রেডে মোট পদ ৩ লাখ ৬২ হাজার ২৮৯টি। এখানে কর্মরত রয়েছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, অর্থাৎ খালি রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ।
তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে অনুমোদিত পদ ৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৩৪টি। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫টি পদে কর্মরত রয়েছেন, ফলে শূন্য রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ।
চতুর্থ শ্রেণির ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে মোট পদ ৫ লাখ ১৯ হাজার ৮১২টি। এখানে কর্মরত আছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন। বাকি ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।
সরকারি দফতরের নির্ধারিত ও অন্যান্য কাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৬ হাজার ১১৬টি পদ। এই পদগুলোতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ হাজার ৮৯০ জন, ফলে ৮ হাজার ১৩৬টি পদ ফাঁকা রয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন পদের জন্য আলাদা। প্রথম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত গেজেটেড পদে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC)। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ হয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে।
বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৬ হাজার ৬৪টি, অধিদফতর ও পরিদফতরে ২ লাখ ৯৬ হাজার ১১২টি, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৫ হাজার ২৯টি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫টি পদ ফাঁকা রয়েছে।